Medecins Sans Frontieres এর ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে প্রতি ঘন্টায় অন্তত ২ জন নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই বছরের শুরুতেই দেশটিতে ১৩ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছে যার মধ্যে ৯ জন দক্ষিণ আফ্রিকার , মালাউয়ির তিন এবং উরুগুয়ের একজন সেনা ছিল। শুধুমাত্র ২০২৪ এর নভেম্বর মাস থেকে ২০২৫ এর জানুয়ারি মাস অর্থাৎ ৩ মাসের মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন কখনো রাশিয়া ইউক্রেন কিংবা আমেরিকার হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় ব্যস্ত, তখন পত্রিকার কোণায় ছোট্ট করে জায়গা করে নেয়া শিরোনামে মাঝে মধ্যে উঠে আসছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর যুদ্ধে হওয়া এমন মানবতার বিপর্যয়ের চিত্র। আসলে কি হচ্ছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে? কখন থেকে চলছে এই যুদ্ধ? কিভাবেই এর শুরু হল? এর ভবিষ্যৎই বা কি?
আজ ২১ শতকের অন্যতম এক যুদ্ধের কথা বলব যা চলছে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। অথচ বিশ্বব্যাপি মিডিয়ায় যার আওয়াজ পৌঁছেছে খুব সামান্যই৷ চলুন শুরু করা যাক।
কঙ্গো
উপ-সাহারান আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও পুরো বিশ্বে ১১ তম বৃহত্তম দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো। আফ্রিকা মহাদেশে আলজেরিয়ার পরেই এই দেশের অবস্থান। এ দেশকে কঙ্গো-কিনশাসা নামেও ডাকা হয়। দেশটির সবচেয়ে বড় শহর হল কিনশাসা। এটিই দেশটির রাজধানী। কঙ্গো নদীর এক পাশে রিপাবলিক অফ কঙ্গোর ব্রাজাভিল, ঠিক অপর পাশেই ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। রোম আর ভ্যাটিকান সিটির পরে এই দুটি দেশের রাজধানীর দূরত্ব সবচেয়ে কম। ২৩,৪৪, ৮৫৮ বর্গ কিলোমিটার দেশটির প্রায় ৬০% বনাঞ্চল দিয়ে ঢাকা। আমাজনের রেইনফরেস্টের সাথে যে বনকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয় তা হল DRC কঙ্গোর রেইনফরেস্ট।
৭৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটি ১৯৬০ সালে বেলজিয়াম থেকে স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার ঠিক পরপরই সংঘাতের আঘাতে জর্জরিত হচ্ছে DRC কঙ্গো। কখনো সরকারের উৎখাত, কখনো একনায়কতন্ত্র কখনো বিদ্রোহীদের আক্রমণ বাতাস ভারী করে রাখছে দেশটির। শুধু নামেমাত্র স্বাধীন হওয়া দেশটি কখনো পায় নি স্বাধীনতার সুঘ্রাণ। তাই তো বিশ্বের অন্যতম খনিজ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও দেশটির নাম পাওয়া যায় সবচেয়ে দরিদ্র ৫ টি দেশের মধ্যে।
যুদ্ধের শুরু
সংঘাতের শুরুটা ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যা থেকে। রুয়ান্ডার প্রায় ৮ লক্ষ তুতসি সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালায় হুতু সম্প্রদায়ের উগ্রবাদীরা। পল কাগামে যিনি বর্তমানে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট, তার নেতৃত্বে তুতসি বাহিনীর প্রতিরোধে শেষ হয় এ জেনোসাইড। শাস্তির ভয়ে প্রায় ২০ লক্ষ হুতু বর্ডার পার হয়ে পালিয়ে তৎকালীন জায়ারে আসে যা বর্তমানের ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো।
ঠিক এর পরপর রুয়ান্ডার আর্মি ১৯৯৬ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে ২ বার কঙ্গো আক্রমণ করেছে। এর পেছনের দুটি কারণ তারা দেখিয়েছে। প্রথমত Democratic Forces for the Liberation of Rwanda (FDLR) ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল। তারা পালিয়ে বর্তমানে কঙ্গোর পূর্ব অঞ্চলগুলোতে এক্টিভ আছে৷ তাদের মতে FDLR কঙ্গোতে পালিয়ে এলেও এখনও তাদের দেশের জন্য হুমকি। তারা তুতুসি সম্প্রদায়কে চিরতরে মুছে ফেলে আবার রুয়ান্ডায় ফিরতে চায়৷ দ্বিতীয় কারণ হুতু সম্প্রদায়। রুয়ান্ডা প্রশাসনের ধারণা হুতু সম্প্রদায়, FDLR এবং কঙ্গো প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে। তাই যতদিন না FDLR আর হুতু সম্প্রদায়ের পুরোপুরি উচ্ছেদ হয় ততদিন কঙ্গো যুদ্ধ থেকে রুয়ান্ডার সরে আসার সম্ভবনা খুবই কম। ডিআরসি কঙ্গোতে বর্তমানে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী M23 এক্টিভ আছে। তাদের দাবি তারা যুদ্ধ করছে তুতসি সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য। অন্যদিকে কঙ্গো সরকারের দাবি এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ হাতিয়ে নেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। দুপক্ষের যাই যুক্তি থাকুক না কেন তাদের সংঘাতে দেশটির ১২৩ মিলিয়ন মানুষের জীবন যে সাক্ষাত নরকে পরিণত হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
M23 কারা?
কারা এই M23 বিদ্রোহী গোষ্ঠী? এম২৩ বা মার্চ ২৩ কঙ্গোর তুতসি সম্প্রদায়ের একটি বিদ্রোহী সশস্ত্রগোষ্ঠী। মূলত সাবেক কঙ্গোলিজ বাহিনীর সেনাদের নিয়ে ২০১২ সালে দলটি গঠন করা হয়। ২০০৯ সালে কঙ্গো সরকারের সাথে একটি শান্তিচুক্তি করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী National Congress for the Defence of the People (CNDP)। চুক্তি অনুযায়ী তাদের সৈন্যদেরকে কঙ্গোলিজ আর্মিতে সুযোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। ঠিক এই কারণেই শান্তিচুক্তির তারিখ মার্চ ২৩ এর নামে সৃষ্টি হয় M23 বাহিনী। যা তাদের স্মরণ করিয়ে দেয় তাদের সাথে সরকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির।
উত্থানের পরপরই ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে সাময়িক সময়ের জন্য কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল গোমার দখল নিয়ে নিয়েছিল দলটি। মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই আবার পরাজিত হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় M23। প্রায় ১ দশক পর ২০২১ সালে আবারও উত্থান হয় দলটির। কিন্তু এইবার আগের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে ফিরে আসে M23। মূল লক্ষ ১৬০০ মাইল দূরের ডি আসি এর রাজধানী কানশাসার নিয়ন্ত্রণ। ইউএনের এক্সপার্টদের মতে এই দলটিকে আর্থিকভাবে ও অস্ত্র দিয়ে ব্যাকআপ দিচ্ছে রুয়ান্ডা। তবে বরাবরের মতই অস্বীকার করছে কিগালি।
M23 কারো কাছে হিরো, কারো কাছে ভিলেন আর একাংশ জনগণ না বোঝে M23 না বোঝে কঙ্গোলিজ আর্মি, তারা শুধু চায় জীবনের নিরাপত্তা। গোমা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেবার পর সেখানকার মানুষ সানন্দে স্বাগতম জানায় M23 কে। তাদের বিজয়ের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। তবে প্রশ্ন রয়েই যায়, এই আনন্দ কি কেবলই জনগণের চোখে ধুলো দেয়া নাকি আদতে স্বৈরাচার শাসনের মুক্তির বার্তা?
বর্তমান পরিস্থিতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর পৃথিবী সাক্ষী হয়েছে অনেকগুলো দীর্ঘ যুদ্ধের। সিরিয়ান গৃহযুদ্ধ, ডারফুর যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধের মত যুদ্ধ গুলো দেশগুলোর রীতিমতো মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। অন্যান্য যুদ্ধগুলো সমাপ্তির মুখ দেখলেও এখনও আশার আলো দেখেনি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর ৩০ বছর ধরে চলা যুদ্ধ।
১৯৯৯ সাল থেকেই ইউএন এর শান্তিরক্ষী বাহিনী শান্তি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছে DRC কঙ্গোতে। বর্তমানে মনুস্ক নামের শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রায় ১০০০০ সৈন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশটিতে। এই বাহিনীর সাহায্যেই ২০১৩ সালে M23 কে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল। তবে এরপর থেকে বিভিন্ন সময় বিদ্রোহীদের আক্রমণ থামাতে ব্যর্থ হয়েছে মনুস্ক। তাই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের শিকার বর্তমানের শান্তিরক্ষী বাহিনী।
তবে বিদ্রোহ থামাতে কোনো পথ বাকি রাখে নি DR কঙ্গোর সরকার। ১৬ টি দেশ নিয়ে গঠিত Southern African Development Community (Sadc) সম্মিলিতভাবে সামরিক বাহিনী পাঠায় ডিআর কঙ্গোর দক্ষিণে। দুর্ভাগ্যবশত সেটিও ব্যর্থ হয়।
২০২২ সাল থেকেই এম২৩ বিদ্রোহীগোষ্ঠী কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকা দখল নেওয়া শুরু করে। এ বছরের ২৭ জানুয়ারি পূর্ব ডিআরসির সবচেয়ে বড় শহর গোমা দখল করে নেয়। যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের বসবাস ছিল। ১৬ ফেব্রুয়ারী দখল নেয় বুকাভু শহরের। ১৯ মার্চ উত্তর কিভু শহরের ওয়ালিকেল মাইনিং অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় M23। সময়ের সাথে যেন বাতাসের চেয়েও ক্ষিপ্র গতিতে ডিআর কঙ্গোর দখল নিয়ে নিচ্ছে M23।
যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষের মাথার উপরে ছাদ নেই। নেই কোনো ঠিকানা। অজানা গন্তব্যের দিকে এগুচ্ছে লাখো মানুষ। খোঁজ শুধু একটু নিরাপদ আশ্রয়ের। ২০২৫ এর জানুয়ারীর ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোয়।। বুরুন্ডিতে ৬৯,০০০ মানুষ, উগান্ডায় ২৯,০০০, রুয়ান্ডা ও তানজানিয়ায় ১০০০ শরণার্থীর প্রবেশ হয়েছে।
২০২৪ এর শেষ পর্যন্ত সংঘাত,, মহামারী, দ্রব্যমূল্যের দাম এতই বেড়ে গিয়েছিল যে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে।
২০২৫ এ সংঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৭০০০। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫ দিনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী এম২৩ যোদ্ধাদের লড়াইয়ে ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে সব ছাড়িয়ে বাড়ছে ধর্ষণের মত অপরাধ। ২০২৩ সালে MFS team সারা দেশজুড়ে প্রায় ২৫,১৬৬ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে বেচে যাওয়া নারীকে চিকিৎসা দিয়েছে। যার মধ্যে ৭১% নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে গোমা শহরে, ২৯% উত্তর কিভুতে আর ৯% অন্যান্য অঞ্চলে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০,০০০ নারীকে চিকিৎসা দিচ্ছে MFS team. শিশুদের উপরে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে ৩০%। ইউএন বলছে শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য হাসপাতাল আর ক্যাম্পেও বোম ফেলছে M23। নারীদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারছে বিদ্রোহীরা।
রুয়ান্ডা যেভাবে জড়িত
যুদ্ধের শুরুটা সাম্প্রদায়িক হলেও এর পেছনেও আছে গোপন আরেকটি কারণ। কঙ্গো এবং অনেকগুলো ইউএন রিপোর্টের অনুসারে এই যুদ্ধ তো শুধুই বাহানা, M23 আর রুয়ান্ডার নজর সত্যিকার অর্থে কঙ্গোর মাটির নিচে থাকা গুপ্তধনের উপর৷ বিশ্বের অর্ধেক কয়লার রিজার্ভ জমা আছে ডি আরসি কঙ্গোর মাটির নিচে। এখানে পাওয়া যায় দুর্লভ এক ধরনের মেটাল যা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির বানানোর কাচামাল। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক যানবাহন, জাতীয় পাওয়ার গ্রিড সব জায়গায় ব্যবহার করা হয়। ২০২২ সালে DLC ২৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে যার প্রথম ৪ টিই ছিল খনিজ সম্পদ। এটা তো শুধুই পুরো চিত্রের সামান্য একটু অংশ। লিথিয়াম, স্বর্ণ, হীরা, জিংক, টিন আর কোলটানের ভান্ডার দিয়ে পরিপূর্ণ ডি আরসি কঙ্গোর মাটি। শুধুমাত্র এর সামান্য অংশই মাইনিং করা হয়েছে, বাকি ২৫ ট্রিলিয়ন মূল্যের খনিজ সম্পদ এখনো মাটির নিচে জমা আছে যাতে হাত পর্যন্ত লাগে নি।
সাম্প্রতি কয়েক বছরে M23 কঙ্গোর বেশ কয়েকটি মাইনিং এরিয়া দখল করে নিয়েছিল। ২০২৪ এর ডিসেম্বরে ইউএন এক্সপার্টদের রিপোর্ট অনুযায়ী, M23 প্রতি চার সপ্তাহে রুয়ান্ডাতে ১২০ টন কোলটান পাঠায়। ইউএন এক্সপার্টদের মতে M23 রুয়ান্ডার প্রক্সি যুদ্ধের পাপেট যাদের দিয়ে রুয়ান্ডা মাইনিং অঞ্চলগুলো দখল করে স্মাগলিং এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী M23 মাসে মিলিয়ন ডলার আয় করছে শুধু খনিতে চাদাবাজি করে আর খনিজ সম্পদ রুয়ান্ডার কাছে বিক্রি করে। এই অর্থ দিয়ে তারা অস্ত্র কিনছে এবং তাদের যোদ্ধাদের বেতনও দিচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে রুয়ান্ডা থেকে বিশাল অংকের খনিজ সম্পদ রপ্তানি করা হয়। এক্সপার্টদের ধারণা এগুলো কঙ্গোরই খনিজ সম্পদ৷ কিন্তু রুয়ান্ডার ঘুরেফিরে ঠিক একই কথা আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।
কি হতে যাচ্ছে
গোমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া M23 এর মূল লক্ষ্য সরকারকে উৎখাত করা। অন্যদিকে DRC কঙ্গো আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোর সাথে মিলে M23 কে ব্যাক আপ দেয়া অন্যতম দেশ রুয়ান্ডার উপর স্যাংশান আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবেও চেষ্টা করে চলছে রুয়ান্ডার উপর চাপ সৃষ্টি করতে। ২০২৪ সালে ট্রাম্প নির্বাচিত হবার পরে ৯১০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সাহায্যও বর্তমানে বন্ধ। আফ্রিকার দেশগুলো আশংকা করছে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে আশেপাশের দেশেও। খালি চোখে এই যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনা একেবারে অসম্ভব। তবে কিছুটা আশার আলো কদিন আগে দেখা গিয়েছে বটে। কাতারের মধ্যস্থতায় গোপন আলোচনায় বসেছিল সরকারপক্ষ আর M23। আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল কিছুটা দেখা গিয়েছে এর মধ্যে। নিজেদের সদিচ্ছার প্রমাণস্বরূপ, কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজসমৃদ্ধ শহর ওয়ালিকালে থেকে সরে গেছে বিদ্রোহীরা।
উপসংহার
এককালে ফ্রান্সের উপনিবেশ হয়ে শোষিত হয়েছে আফ্রিকার মানুষ৷ তারপর পেল বহু আকাংক্ষিত স্বাধীনতা। ভুল শাসক, ভুল রাজনৈতিক চালে সে স্বাধীনতা অভিশাপ হয়ে আছে বহু বছর। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর মানুষ এখন শুধুই নিঃশ্বাস নিতে চায় স্বাধীনতার মুক্ত বাতাসে। চায় জীবনের নিরাপত্তা আর একটা স্বাভাবিক জীবন। সব বিভেদ, লোভ ছাড়িয়ে তারা কি পারবে আফ্রিকাকে বিশ্বের সামনে নতুন ভাবমূর্তিতে তুলে ধরতে? নিজেদের শক্তির মূল্যায়ন সঠিকভাবে করতে? দেশের জনগণকে একটি স্বাভাবিক জীবন দিতে? সেটা সময়ই বলে দেবে।



