আর্টিকেল লিখার মাধ্যমে খুব দ্রুত ইনকাম করুন এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন

Article writing Guideline

আপনি কি আর্টিকেল লিখে বা কন্টেন্ট লিখে খুব দ্রুত ইনকাম করতে চান? বেকারত্ব থেকে দূরে থেকে এই লকডাউনে ঘরে বসেই আর্ন করতে চান? তবে আপনি এখন সঠিক জায়গায় সঠিক গাইডলাইন পড়ছেন।

চলুন তো শুরু করা যাক আজকের টপিক নিয়ে আলোচনা। তবে আর্টিকেল রাইটিং বা কন্টেন্ট মার্কেটিং করে করে ইনকাম করার পূর্বে আপনি যদি একেবারেই নতুন হোন তাহলে আপনার জানতে হবে আর্টিকেল রাইটিং কী বা কন্টেন্ট মার্কেটিং বলতে কি বুঝায়।

আর্টিকেল রাইটিং কী?

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের ইনকাম করার অন্যতম সহজ পদ্ধতি হচ্ছে আর্টিকেল রাইট করে ইনকাম করা। আর্টিকেলকে অন্যভাবে কন্টেন্ট বা বাংলায় পোষ্ট ও বলা হয়ে থাকে। যেকোনো বিষয়, টপিক, ক্যাটাগরী অথবা নিশ এর উপর নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের কোনো একটা বর্ণনা লিখা বা পোষ্ট লিখাই হচ্ছে আর্টিকেল।

কিভাবে আর্টিকেল রাইটিং করবেন?

একদম সহজ ভাষায় আর্টিকেল লিখা বলতে আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে নির্দিষ্ট একটি টপিক বা কিওয়ার্ড বলে দিবে আপনাকে সে টপিক বা বিষয়ের বিস্তারিত আর্টিকেল লিখতে হবে। এরপর আপনার লিখা আর্টিকেল আপনি আপনার ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইটে পোষ্ট করবেন অথবা তাকে জমা দিবেন এবং তার জন্য আপনাকে আপনার ক্লায়েন্ট সম্মানী দিবে (পে করবে)।

আরো পড়ুন: গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শিখবেন?

আরো পড়ুন: এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং এর যত খুটিনাটি

কিভাবে পেমেন্ট পাবো আর্টিকেল লিখে?

প্রতি আর্টিকেলের জন্য আপনার সাথে আপনার ক্লায়েন্টের আগেই আলোচনা হবে পেমেন্টের ব্যাপারে। বিদেশি মার্কেটপ্লেইসে হলে ডলার সিস্টেমে আপনাকে পেমেন্ট করবে আর আপনি যদি দেশী কোনো লোকাল ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করেন তাহলে তিনি বিকাশ, নগদ সিস্টেমে আপনাকে আপনার আর্টিকেল বাবদ পে করবে।

আর্টিকেল লিখার ফি কেমন হওয়া উচিৎ?

বাংলাদেশী হিসেবে লোকাল ক্লায়েন্টের জন্য কন্টেন্ট লিখলে আপনি যা পাবেন তার দ্বিগুন বা বেশি পেতে পারেন বিদেশী জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেইস গুলতে কাজ করে। এক এক আর্টিকেল রাইটার তার রেইট এক এক রকম জানায় ক্লায়েন্টকে। তবে বাংলাদেশী লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ করতে গিয়ে এভারেজ পরিসংখ্যানে দেখা যায় দেশী আর্টিকেল রাইটার গুলোঃ

৫০০ ওয়ার্ডের কোনো আর্টিকেলের জন্য চার্জ করেন ২৫০ টাকা বা তার অধিক
১০০০ ওয়ার্ডের কোনো আর্টিকেলের জন্য চার্জ করেন ৫০০ টাকা বা তার অধিক
আর বিদেশী মার্কেটপ্লেইস গুলোতে এক একটা আর্টিকেল লিখে আপনি পেতে পারেন ৫ ডলার থেকে শুরু করে ৩০ ডলার অব্ধি!

উল্লেখ্য, এখানে ফি গড় পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে। আপনি যদি নতুন আর্টিকেল রাইটার হোন তবে আমরা ব্যাক্তিগতভাবে সাজেস্ট করবো এরচেয়ে কম ফি যদি দিবে বলে আপনার ক্লায়েন্ট তাতেও কাজটি আপনি করে দিন। নিজের অভিজ্ঞতা লাভ করুন।

আর্টিকেল রাইটিং কি কি জানতে হবে অবশ্যই? কিভাবে শিখবো?

আর্টিকেল রাইটিং আহামরি কিছু না, আবার ইজি কিছু ও না। আপনাকে আপনার বন্ধু যদি বলে করোনা মহামারী থেকে বাচার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোষ্ট আপলোড করতে। তাহলে এটি যেমন আহামরী কিছু না আপনি অবশ্যই করে দিবেন এই পোষ্ট। ঠিক একইভাবে আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকেবলে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড দিবে তার উপর লিখে দিবেন যত ওয়ার্ডের তিনি চায়। এখানে কিওয়ার্ড বলতে বোঝায় আপনি সার্চ ইঞ্জিন তথা গুগলে কি লিখে সার্চ করলে আপনার লিখা আর্টিকেলটি সার্চ ফলাফলে শো করবে। কিওয়ার্ডে র‍্যাংক করানোর উপর একটু স্টাডী করতে হবে যাতে আপনার লিখা কিওয়ার্ডের আর্টিকেলটি সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেইজে শো করে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (Search Engine Optimization -SEO) সম্পর্কে আপনার ধারণা রাখতে হবে। এইসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ইউটিউব ভিডিও দেখে বুঝতে পারবেন।

কোথায় আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ পাবো?

আপনি যদি উপরের সব বিষয় আয়ত্ত করে ফেলেন এবং নতুন হিসেবে আর্টিকেল লিখা শুরু করতে চান তাহলে প্রথমে চেষ্টা করবেন দেশের কিছু লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ করে দিতে। লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ মোটামুটি পাওয়া যায় ফেইসবুকের ফ্রিল্যান্সিং রিলেটেড বড় বড় গ্রুপে পোষ্ট করে অনেকে হায়ার করে আর্টিকেল রাইটার। তাছাড়া ফেইসবুক জব মার্কেটপ্লেইসেও অনেকে খুজে আর্টিকেল রাইটার। আপনি সেখানে এপ্লাই করতে পারেন। এছাড়াও অনেক সোশ্যাল প্লাটফর্মেও অনেকে খুজে আর্টিকেল রাইটার। যেমনকি লিংকডইন, ইন্সটাগ্রাম, রেডিট। লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ করার পর আর্টিকেল রাইটিংকে একটা প্যাশন হিসেবে নিতে আপনি কাজ করতে পারেন জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেইসে যেমনঃ Upwork, Fiverr, Freelancers.com এ। আপনি এই ধরণের মার্কেটপ্লেইস গুলতে আর্টিকেল রাইটার হিসেবে নিজের প্রোফাইল ক্রিয়েট করে রাখবেন। পাশাপাশি ফাইভারে গিগ ক্রিয়েট করবেন। গিগ বলতে যে বিষয়ে এক্সপার্ট হলে মার্কেটপ্লেইসে এসেছেন সে বিষয়ের উপর কাজের ধরণ, কিভাবে চার্জ করেন সবকিছু একটা পোষ্ট এর মতো। ফাইনালি প্রোফাইল ক্রিয়েশনের পর সার্চ করবেন অনেক ক্লায়েন্ট পোষ্ট করবে আর্টিকেল বা কন্টেন্ট রাইটার লাগবে হিসেবে এবং বিস্তারিত কাজ নিয়ে সহ পোষ্ট দিবে এইরকম পোষ্টগুলো। সেখানে আপনি বিড করবেন । অর্থাৎ ভালো করে কমেন্ট করবেন যে এই কাজটি আপনি করতে চান, আপনি এক্সপার্ট করতে পারবেন এই কাজ। এর পর ক্লায়েন্টের আপনাকে পছন্দ হলে আপনার সাথে যোগাযোগ করে ম্যাসেজ করে কাজটি দিবে।

কিছু জিনিষ মনে রাখবেন, অনেকে স্ক্যাম পোষ্ট করে যে আর্টিকেল রাইটার লাগবে বলে। এরপর নতুনরা সেখানে বিড করে। স্ক্যামাররা সবাইকেই রিপ্লে করে সিলেক্ট করে এবং বলে যে এই কাজ পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু ফি ডিপোজিট করতে হবে সিকিউরিটি হিসেবে। আপনি তাদের ফাদে পা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেইসগুলোতে কোনো ডিপোজিট এর প্রয়োজন নেই।

আরো পড়ুন: SEO কি? ‍SEO কিভাবে শিখবো? ‍এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ? SEO কত প্রকার?

আরো পড়ুন: এসইও কি? এসইও কিভাবে শিখবো? Easy way 2022

আরো পড়ুন: ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ১০ টি ভুল ধারণা

আশা করছি বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। অন্য কোনো গাইডলাইন নিয়ে আবারো হাজির হবো দ্রুত। চলো জানি-র সাথেই থাকুন।

error: দুঃখিত! কন্টেন্ট কপি করা যাবেনা! প্রয়োজনে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন