এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কমপ্লিট গাইডলাইন [ Best Guides 2022]

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি
Contents

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি তা নিয়ে আমরা অনেকে জানিনা। কিন্তু আপনি যখন কোনো প্যাসিভ ইনকাম চাইবেন তখন আপনার জানতে হবে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি, এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় ইত্যাদি। চলোজানি’র আজকের এই ব্লগে শেয়ার করবো এফিলিয়েট মার্কেটিং কি,এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন, এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে, এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স নিয়ে সমস্থ কিছু।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

আমরা মার্কেটিং বলতে কি বোঝায় কম বেশি সবাই জানি। তবে বিষয়টা যখন এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে, তখন আমাদের মনে অনেক রকম প্রশ্ন জাগে। মার্কেটিং বলতে জেনে আসছি কোনো শপিং সেন্টার গিয়ে কেনাকাটা করা। তাই না? আসলে কিন্তু না!আসলে মার্কেটিং হচ্ছে যে কোন পণ্য অথবা সার্ভিস এর প্রমোশন করা, প্রচার করা ও ওই পণ্য এর ক্রেতা তৈরি করা। আপনি অফলাইনে যদি কোনো প্রোডাক্টের প্রমোশন করেন তবে এটা মার্কেটিং। আর এই মার্কেটিং আপনি যখন অনলাইন এ করবেন সেটা হবে “ডিজিটাল মার্কেটিং”। আপনি যখন আপনার এই ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল টা নিজের কোনো প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস এর বিক্রয় ও প্রমোশন এর জন্য ব্যাবহার করবেন, তখন সেটা হবে ইন্টারনেট মার্কেটিং। আর আপনি যখন আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল টা ব্যাবহার করে অন্য কারও প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস কমিশন ভিত্তিক প্রমোশন করবেন সেটা হবে এফিলিয়েট মার্কেটিং

এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে

ভারচুয়াল দুনিয়াতে অন্য কোনো কোম্পানি, অন্য কোনো অরগানাইজেশন, অন্য কোনো অনলাইন স্টোর, অন্য কোনো অনলাইন বিজনেস, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির প্রোডাক্ট নিজের মাধ্যমে বিক্রি করাকে বলে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য নিজের একটা ব্লগ/ফেইসবুক পেইজ/ইউটিউব চ্যানেল থামা জরুরী যেখানে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রোডাক্টগুলো প্রমোশনের কাস্টমার পাওয়া যাবে। বর্তমান সময়ে সহজ উপায়ে খুব দ্রুত ইনকাম পদ্ধতি হচ্ছে একমাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি আপনার জন্য?

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এইটা জানার পর আপনাকে জানতে হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে আপনি আপনার ক্যারিয়ার বা প্রফেশন হিসেবে নিতে পারবেন কিনা তা শুরু করার আগেই যাচাই করুন। নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে যাচাই করে দেখুন। যদি সব পয়েন্টগুলো আপনার সাথে মিলে যায়, তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য। একটিও যদি না মিলে, যত দিন আপনি ওই জিনিস টি মিলাতে না পারবেন, ভালো মার্কেটার হতে ওই একটি বাঁধা আপনার রয়ে যাবে।

  • আপনার কম্পিউটার টি আপনার মন মত, এই কম্পিউটার এ আপনি কাজ করে আনন্দ পান।
  • আপনার স্টাবল ইন্টারনেট কানেকশন রয়েছে।
  • আপনি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন, আপনার একটা ব্যাক্তিগত রুম রয়েছে কাজ করার এবং স্বপ্ন সত্যি করার জন্য আপনি নিরলস পরিশ্রম করতে রাজি।
  • খুব সূক্ষ্ম ভুলও আমার চোখ এড়ায় না, যা করি একদম ভালো মত করি।
  • বন্ধু, আড্ডা, খেলা,  বেরানো সব কিছুর চাইতে বেশি আপনি আপনার ক্যারিয়ার কে মূল্য দেন।
  • মোটামুটি ইংরেজি দক্ষতা আছে আপনার ব্যাসিক।
  • বিফল হলেও হার না মেনে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে আপনার।
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং এ এখনি ইনকাম করার চাইতে, শিখা টা আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • যেকোনো কিছু সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত তথ্য খুঁজে বের করতে পারেন গুগল থেকে।
  • আপনার মধ্যে লোভ খুব একটা কাজ করে না। তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়াতে আপনি বিশ্বাসী না।

সবগুলো যদি আপনার সাথে মিলে যায় তাহলে, শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য, এফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফল আপনি হবেন।

আরো পড়ুনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শিখবেন?

আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ১০ টি ভুল ধারণা

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing মূলত যে সমস্ত কোম্পানি অফার করে থাকে তাদের অটো সফটওয়্যার থাকে অটো সফটওয়্যার মাধ্যমে এফিলিয়েট বিক্রয়ের উপর বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটিং তারা কমিশন দিয়ে থাকে। কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান ভেদে সাপ্তাহিক, মাসিক, বা যে কোন সময় আপনার পেমেন্ট তুলতে পারবেন। এটি মূলত একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু পণ্য বা সেবা থাকে। সেবা বা পন্য আপনার ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া, বা যে কোন ডিজিটাল মার্কেটিং করে বাড়িতে বসে কাজ করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing এর জন্য পণ্য বা সেবা তিন রকমের হয়ে থাকে:

১। ডিজিটাল প্রডাক্ট:

ডিজিটাল পণ্য হল যে সকল পণ্যে সাদৃশ্য নয়, অর্থাৎ ভার্চুয়ালি ব্যবহার করতে হয়, সে সকল পণ্য হচ্ছে ডিজিটাল প্রোডাক্ট/Product, যেমন, ই-বুক, ওয়েব হোস্টিং, ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন, কোন সফটওয়্যার,  অনলাইন  ক্লাস, ভিডিও ইত্যাদি। যারা অনলাইন এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ডিজিটাল প্রোডাক্ট। ডিজিটাল পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে 5% থেকে শুরু করে 70%  পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ SEO কি? ‍SEO কিভাবে শিখবো? ‍এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ? SEO কত প্রকার?

২। ফিজিক্যাল প্রডাক্ট:

দ্বিতীয়ত হচ্ছে ফিজিক্যাল Product অর্থাৎ যে সমস্ত জন্য আমরা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে থাকি। যেমন, ইলেকট্রিক পণ্য, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, ফার্নিচার, পোশাক-আশাক, ফলমূল এবং খাবার ইত্যাদি । এ সকল পণ্য 2%  থেকে শুরু করে 20% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। এ সকল পণ্য নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করতে হলে অবশ্যই ডেলিভারির কথা মাথায় রাখতে হবে। আপনি যে কোম্পানির পণ্য সেল করবেন সে কোম্পানি ঠিকমতো ডেলিভারি দিচ্ছে কিনা, এই সমস্ত ব্যাপারে আপনাকে অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

৩। লীড জেনারেশন:

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করার জন্য আরও একটি জনপ্রিয় প্রডাক্ট হচ্ছে লিড জেনারেশন, অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র তাদের Product এর জন্য মার্কেটিং করবেন এবং আপনার ক্রেতারা তাদের ক্রেডিট বা টাকা খরচ করে কোন পণ্য কিনতে হবে না কিন্তু আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন। যেমন, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস সাইনআপ, ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন, চ্যানেল সাবস্ক্রাইব, অ্যাপস ডাউনলোড ইনস্টল, ভিডিও ভিউজ।

অর্থাৎ এমন কিছু কাজ রয়েছে যে, আপনাকে বলা হবে, একটি এন্ড্রোয়েড অ্যাপস 1000 মোবাইলে ইন্সটল করতে হবে, সেক্ষেত্রে আপনার কাজ হবে সেই অ্যাপটির লিঙ্ক দিয়ে বিভিন্ন ভাবে আপনার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যাতে সেই লিঙ্কে ক্লিক করে আপনার ক্রেতারা সেই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস টি তাদের মোবাইলে ইন্সটল করে। যখনই আপনার লিংকে ক্লিক করে সেই অ্যাপস টি ইন্সটল করবে আপনি সেই অ্যাপস এর বিনিময়ে দেওয়া নির্ধারিত টাকা আপনার একাউন্টে জমা হয়ে যাবে। এবং এই পদ্ধতি টা কে সিপিএ মার্কেটিং ও বলা হয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার আগে আপনার ৩ টি টপিক জানা লাগবে –

১। নিশ কিঃ 

নিশ কে সহজ ভাষায় বলা যায় “ইন্ডাস্ট্রি”। মার্কেট এ গেলে যেমন দেখা যায় – কাপড় এর দোকান, খাওয়ার দোকান, জিম, বিউটি পার্লার ইত্যাদি। আপনি জানেন ইন্টারনেট এও রয়েছে ফুড এর ওয়েবসাইট, ড্রেস এর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন বিউটি প্রডাক্ট ইত্যাদি। এখন খাওয়ার দোকান যেমন হচ্ছে “ফুড ইন্ডাস্ট্রি” এর মধ্যে, একইরকম “ফুড এর ওয়েবসাইট” হচ্ছে “ফুড নিশ” এ। অফলাইন এ ইন্ডাস্ট্রি আর অনলাইন এর ভাষায় “নিশ”। নিশ কে ইন্টারনেট এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও প্রডাক্ট এর ক্যাটাগরি ও বলা চলে। যেমন – “Career & Jobs” এই ক্যাটাগরি তে পরবে যত রকম জব ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক ওয়েবসাইট, প্রডাক্ট, সার্ভিস।

আরো পড়ুনঃ নিশ কিভাবে সিলেক্ট করবেন? ৫টি অত্যন্ত সহজ ধাপ! হয়ে যান সফল ব্লগার

আপনি যদি কোন ক্যারিয়ার  রিলেটেড প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান – উধাহারন সরূপ বলা যায় oDesk যদি প্রমট করেন, তাহলে আপনার নিশ হচ্ছে “Career & Jobs”. উল্লেখ্য অনেকেই হয়তো ভাববেন – oDesk হবে Freelancing ক্যাটাগরি / নিশ এ। হা এইটা সত্য, oDesk আসলেই “Freelancing/Outsorcing” নিশ এ, কিন্তু একই সাথে আবার “Career & Jobs” এও। একটু পেঁচানো মনে হচ্ছে? হওয়াটাই স্বাভাবিক! নিশ এর মধ্যে একটি জিনিষ আছে – সেটা হচ্ছে “সাব নিশ”। এখানে oDesk যদি প্রডাক্ট হয় তাহলে এটির নিশ হবে – Career & Jobs > Freelancing/Outsourcing. অর্থাৎ প্রধান নিশ হচ্ছে “Career & Jobs” আর সাব নিশ হচ্ছে “Freelancing/Outsourcing”। আরও কিছু উধাহারন দেয়া যায় যেমন – Food & Cooking > Recipies অথবা Sports > Football > Shoes। আপনি একটি প্রধান নিশ এর যত ভিতরে যাবেন ( সাব নিশ ) আপনার জন্য তত সহজ হবে কাজ শুরু করা।

২। কিভাবে ও কোথায় আপনার পছন্দের নিশ থেকে ভালো মানের কমিশন ভিত্তিক প্রডাক্ট পাবেন প্রমোশন এর জন্যঃ

ভিবিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে আপনি আপনার পছন্দ মত প্রোডাক্ট পাবেন আপনার পছন্দের নিশ এ। আপনি একটু গুগল এ সার্চ করলেই অন্তত ৫০টি ভালো মানের এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস পাবেন। তবে শুরু করার জন্য সবচাইতে ভালো হচ্ছে ClickBank.com, বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ক্লিকব্যাংক এ কাজ করবেন।এছাড়া আপনি শুরু করতে পারেন Jvzoo এ, অথবা LinkShare এ। মার্কেটপ্লেস এ একাউন্ট ওপেন করা, কাজ শুরু করা কোন ব্যাপার ই না, YouTube এ খুঁজলেই অনেক ভিডিও পাবেন।  আর আপনি যদি ClickSure  এ কাজ শুরু করতে চান, তাও করতে পারেন, তবে আমার মতে শুরু করার জন্য সবচাইতে ভালো হচ্ছে ClickBank. আপনি এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনার মন মত প্রোডাক্ট পাবেন।

৩। কিভাবে সেই প্রডাক্ট টি অনলাইন এ মার্কেটিং  করে কমিশন আয় করবেনঃ

এই ছোট্ট প্রশ্ন টির সঠিক উত্তর আমি আজ ৭ বছর ধরে শিখছি, এখনও মনে হয় কিছুই শিখতে পারিনি। আমি আপনাদের খুব সহজ ভাষায় বলব আর কিছু আইডিয়া দিবো যেন আপনি গুগল ও youtube থেকে নিজ গুনে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। পণ্য টি আপনি ২ ভাবে মার্কেট করতে পারেন। এক হচ্ছে ডিরেক্ট মার্কেটিং, অর্থাৎ সরাসরি কাস্টমার দের প্রোডাক্ট এর সেলস পেইজ এ পাঠিয়ে দিয়ে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে একটি সেলস ফানেল করে কাস্টমার দের কন্টাক্ট ইনফো নিয়ে, ওদের প্রোডাক্ট এর গুণাগুণ সম্পর্কে জানিয়ে এর পর প্রোডাক্ট এর সেলস পেইজ এ পাঠিয়ে। ২ টি মেথড ই আমি একটু পরে আলোচনা করবো, তবে যে মেথড এই কাজ করেন – আপনার তিনটি জিনিষ জানা লাগবে তা হল ১। কাস্টমার চেনা (Traffic Targetting) ২। তাদের প্রোডাক্ট পেইজ এ নিয়ে আশা (Drive Traffic) ৩। কনভারসন টেকনিক।

আর বলা বাহুল্য বেশিরভাগ সফল মার্কেটার সেলস ফানেল এর মাধ্যমে মার্কেটিং এ কাজ করে, আর আমি চাই আপনিও সেলস ফানেল করে কাজ করেন, তবে এর জন্য আপনার জানতে হবে সেলস ফানেল কি ও কিভাবে তৈরি করবেন, যেটা একটু পরেই আমরা আলোচনা করবো।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কমপ্লিট গাইডলাইন [ Best Guides 2022]

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

আপনি যদি ডিরেক্ট মার্কেটিং করতে চান, যেটা সর্টকাট অথবা যদি এমন ভাবেন আগে একটু চেষ্টা করে দেখি যদি কিছু নগদ “নারায়ণ” আসে তাহলে ভালো ভাবে শুরু করবো, তাহলে কিভাবে শুরু করবেন বলার খুব একটা কিছু নাই। একটি প্রোডাক্ট সিলেক্ট করেন, আর এর পর ট্রাফিক সেন্ড করেন সেই প্রোডাক্ট পেইজ এ।এফিলয়েট মার্কেটিং কি তা না হয় জেনে নিলেন কিন্তু এইবার এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো এই প্রশ্নে আসলে আপনার জানতে হবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার সমস্থ বিষয় নিয়ে আদ্যোপন্ত।। আর যদি সত্যিকার মার্কেটার এর মত কাজ করতে চান, ক্যারিয়ার করতে চান, তাহলে অবশ্যই সেলস ফানেল করে কাজ করেন। কিভাবে ও কোথা থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ শুরু করবেন – এর জন্য আমি নিচে স্টেপ বাই স্টেপ নোট করে দিচ্ছি –

১। প্রস্তুতিঃ

যদি সফল হতে চান তাহলে প্রথমেই নিজের সাথে কমিটমেন্ট করতে হবে – “যে কোন মূল্যে সফল হবোই”। সাধারণ মানুষ এর চাইতে কমিটেড মানুষ দের সাফল্য অনেক গুন বেশি। আর এই কমিটমেন্ট টি করতে হবে একদম মন থেকে, আপনাকে আপনি বলবেন – যে কোন মূল্যে আমি সফল হবোই। কমিটমেন্ট করার পর একটি প্লান করবেন – কবে থেকে কাজ শুরু করবেন, কত টাকা আপনার ইনভেস্টমেন্ট, দিনে কত ঘণ্টা কাজ করবেন, কত ঘণ্টা কাজ শিখার জন্য দিবেন, কি কি ওয়েবসাইট ফলো করবেন ইত্যাদি। কাজ সম্পর্কিত সকল কিছু একটি প্লান এর মধ্যে নিয়ে আসবেন, মনে মনে রাখলে পুরে ভুলে যাবেন, তাই সব কিছু প্রথমেই প্লান আকারে নোট করে নিবেন।

২। নিস সিলেকশনঃ

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নিস সিলেকশন। আপনি যদি আপনার জন্য পারফেক্ট নিস সিলেক্ট না করতে পারেন, তাহলে সফলতার হার কাজ শুরু করার আগেই কমে যাবে! আমরা অনেকেই নিস সিলেকশন এর জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেই Keyword Research, Market Analysis ইত্যাদি জটিল সব বিষয় কে আর সহজ একটি জিনিশ ভুলে যাই “আমার কি ভাল লাগে”। যে কোন কাজ এ সফল হওয়ার জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়, আর যদি আপনার টপিক টি আপনার পছন্দের না হয় তাহলে এর উপর প্রচুর পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব। নিস সিলেকশন এর জন্য আমার বেক্তিগত মতামত হচ্ছে – মার্কেট রিসার্চ, কম্পিটিশন, কীওয়ার্ড ইত্যাদি বিষয় এর চাইতে বেশি গুরুত্ব দেয়া লাগবে – আপনার কি ভাল লাগে, আপনি কি পারেন, আপনার দক্ষতা কোথায় তার উপর। আরো পড়ুন: নিশ কিভাবে সিলেক্ট করবেন? ৫টি অত্যন্ত সহজ ধাপ! হয়ে যান Successful Blogger 2022

উদাহারন – আপনি হয়ত একজন ওয়েব ডিজাইনার, আপনার নেশা, পেষা, ভালবাসা সব কোডিং আর ডিজাইনিং ঘিরে – কিন্তু সাইড ইনকাম এর আসায় এফিলিয়েট এ কাজ করার চেষ্টা করছেন “Make Money” তে !! আপনার উচিত আপনার কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার ভাল লাগে এমন নিস সিলেক্ট করতে – উদাহারন – আপনার ওয়েব ডিজাইনার হলে আপনার জন্য ভাল হবে – থিম / প্লাগিন এর এফিলিয়েট করলে। সুতরাং আপনার পছন্দ মত একটি নিস সিলেক্ট করে ফেলেন, যদি হেল্প লাগে এ বেপারে কমেন্ট এ জানাতে পারেন আপনার কি ভাল লাগে, কি কাজ করেন আপনি – আমি সাজেশন দিয়ে দিবো।

৩। নিস অথরিটিঃ

সবাই ক্লিক পায় আর কিছু মানুষ সেল পায় – এর কারন টা এইটা :) আমরা বেশিরভাগ ই যে কোন একটা নিস সিলেক্ট করে “ক্লিক আনার” যুদ্ধে নেমে পরি! আপনার মার্কেট থেকে সেল নিতে হলে ওই মার্কেট এ আপনার অথরিটি থাকা লাগবে, আপনার ওই নিস সম্পর্কে দক্ষতা লাগবে, আর এই দক্ষতাই আপনাকে হেল্প করবে ভাল মানের কন্টেন্ট বানাতে, এড লিখতে, ল্যান্ডিং পেইজ বানাতে, ফলোআপ করতে। নিস সিলেক্ট করার পর অন্তত ১৪ দিন ( ২ সপ্তাহ ) সময় দিন নিস অথরিটি পাওয়ার জন্য। কিভাবে পাবেন বলছি – যদি আপনার নিস হয় “Weight Loss” – তাহলে আপনি প্রথমেই খুঁজে বের করবেন এর উপর ভাল মানের ৫ – ৬ টা ব্লগ, ভাল মানের আর্টিকেল গুল সব প্রিন্ট করে ফেলবেন এর পর পরীক্ষার সময় যেভাবে পড়ে নোট নিতেন ঠিক সেইভাবে আর্টিকেল গুল পরবেন, যা যা ভাল লাগবে নোট নিবেন। মার্কেট এ ভাল মানের কি কি প্রোডাক্ট আছে সব গুলোর সম্পূর্ণ সেলস ভিডিও দেখবেন, রিভিও পরবেন, ব্লগ / ভিডিও তে কমেন্ট গুলো পরবেন। সব মিলিয়ে আপনার ভাল ধারনা হবে, মার্কেট এ কি রকম প্রোডাক্ট আছে, মানুষ কি রকম প্রোডাক্ট চায়, তাদের কি সমস্যা, আর কোন প্রোডাক্ট এর কোন গুণাবলি সেই সমস্যা সমাধান এ কাজে দিবে। এছাড়াও আপনি যখন আপনার নিস সম্পর্কে জানবেন – আপনার নিজের মধ্যে ভাল কনফিডেন্স কাজ করবে, প্রত্যেকটি কাজ সাবলীল ভাবে করতে পারবেন। অন্তত ২ সপ্তাহ ভাল ভাবে নিস সম্পর্কে পড়াশোনা করার পড় আপনি এর পর এর ধাপ এ কাজ করবেন। আর কাজ শুরু করার পর প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিবেন নিস এ নতুন কিছু শিখার  জন্য। ভাল হয় যখনি ভালো কোন ভালো আর্টিকেল দেখবেন সাথে সাথে প্রিন্ট করে রাখবেন, আর প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে পরবেন। আপনি আমার এই কথাটি সিরিয়াস নেন আর না নেন, কিন্তু এইটাই সত্যি – আপনি যদি আপনার নিস সম্পর্কে ভালো ভাবে না জানেন তাহলে আপনি ভালো করতে পারবেন না, আর আপনি যদি প্রতিদিন আপনার নিস সম্পর্কে নতুন নতুন জিনিশ না শিখেন তাহলে আপনার আয় বাড়বে না। আর একটা কাজ করবেন – যখন ভালো আর্টিকেল দেখেবন, ভালো কোন এড দেখবেন – যা যা ভালো লাগে নোট করে রাখবেন পড়ে আপনার কাজে লাগবে। একটা বেপার মাথায় রাখেবন – আপনি যত কম কম্পিটিশন এর ই নিস বের করেন না কেন – আপনি যদি না জানেন সেখানে ভালো করার সুযোগ নাই, আর আপনি যেই নিস ভালো জানেন সেখানে যতই কম্পিটিশন থাক আপনার ভালো করার সুযোগ আছে। যদি সব বিষয় মাথার উপর দিয়ে যায় তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল লিখে ইউটিউবে সার্চ করুন। এফিলিয়েট মার্কেটিং কি নিয়ে অসংখ্য ভিডিও পেয়ে যাবেন।

৪। মার্কেট সিলেকশনঃ

নিস সিলেক্ট করার পড় সিলেক্ট করবেন মার্কেটপ্লেস। একসাথে অনেক গুলো মার্কেট এ কাজ করার চাইতে যে কোন একটায় কাজ শুরু করা ভালো। এতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। অনেক গুলো মার্কেটপ্লেস আছে তবে শুরু করার জন্য ভালো হচ্ছে ClickBank.com অথবা Jvzoo.com. এছাড়া অন্য কিছু মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ClickSure.com, ClickBetter.com, PayDot.com, VIPAffiliates.com, TwistDigital.com, LinkShare.com, Cj.com, Payspree.com ইত্যাদি। যেই মার্কেট এ কাজ করবেন সেই মার্কেটপ্লেস এর অফিসিয়াল YouTube চ্যানেল এ অনেক টিপস / how to ভিডিও পাবেন ওগুলো দেখে নিলে অনেক উপকার পাবেন।

৫। প্রোডাক্ট সিলেকশনঃ

মার্কেটপ্লেস ঠিক করার পর আপনি মার্কেট এর প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি থেকে আপনার পছন্দের নিস এর ক্যাটাগরি তে ঢুকে প্রোডাক্ট গুলো কাস্টমার হিসাবে দেখেন। আপনি যদি ” নিস অথরিটি” এর জন্য ২ সপ্তাহ সময় দিয়ে থাকেন, তাহলে ১০ – ১৫ টা প্রোডাক্ট চেক করলে ১টি ভালো প্রোডাক্ট খুঁজে বের করা আপনার জন্য কোন বেপার না। ভালো প্রোডাক্ট কখনও “সার্চ” ভলিউম এর উপর নির্ভর করে না, ভালো প্রোডাক্ট এ “Clear benefit” থাকে, ভালো মানের সেলস পেইজ থাকে, ভালো সাপোর্ট থাকে এবং একি সাথে ভালো রিভিও থাকে। আমি ইভেন্ট এ, ও আমার এডভান্স টিটরিয়াল এ প্রোডাক্ট সিলেকশন এর উপর বিস্তারিত আলোচনা করেছি, আসা করি ব্লগ এও একটি আর্টিকেল দিতে পারব তাড়াতাড়ি। এছাড়া আপনি Google ও YouTube এ “How to select/find a good/profitable product for affiliate marketing/promotion” লিখে সার্চ করলে ভালো রিসোর্স পাবেন।

৬। সেলস ফানেলঃ

প্রথমেই বলি সেলস ফানেল কি? সেলস ফানেল মূলত একটি ” ফানেল” জার মাধ্যমে ট্রাফিক কে ঘুরিয়ে আনলে সেলস এর প্রবাবিলিটি বারে। উদাহারন সরূপ বলা জায় – কাস্টমার একটি হস্টিং কিনবে, আপনি যদি তাকে সরাসরি হস্টিং এর সেলস পেইজ এ পাঠিয়ে দেন তাহলে সেটি ডিরেক্ট মার্কেটিং হচ্ছে, আর আপনি যদি একটি পেইজ বানান যেখানে আপনি সেই হস্টিং এর বেনিফিট গুলো তুলে ধরেছেন, হয়তো কিছু ভিডিও করে দিয়েছেন কিভাবে এই হস্টীং টি ব্যাবহার করতে হয় – সেই ভিডিও গুলো দেখলে, আর ভালো ভাবে জানলে কিন্তু তখন পটেনশিয়াল কাস্টমার এর কেনার উৎসাহ বেড়ে যাবে। এই যে আপনার এই একটি পেইজ অথবা, ভিডিও অথবা আর্টিকেল যাই হক – কাস্টমার কে সেলস পাইজ এ পাঠানর আগেই কেনার জন্য উৎসাহী করে তুলবে এইটাই মূলত সেলস ফানেল। ভালো মানের একটি সেলস ফানেল তৈরি করতে ৫ থেকে ১০ দিন লাগা টা স্বাভাবিক আর $100 থেকে $300 খরচ হওয়া টাও স্বাভাবিক। আপনার যত ভালো সেলস ফানেল তত বেশি ইনভেস্টমেন্ট এর উপর রিটার্ন পাবেন। তবে অল্প তেও শুরু করা যায় যেমন Fiverr.com থেকে মাত্র $5 দিয়েও আপনি চাইলে একটি Squueze Page বানিয়ে নিতে পারবেন।

সেলস ফানেল হিসাবে সবচাইতে ভালো কাজ করে ভিডিও ল্যান্ডিং পেইজ, এর পর হচ্ছে মাইক্রো ব্লগ, এর পর নরমাল ল্যান্ডিং পেইজ। আর ভালো হয় যদি আপনি একটি ওয়েবসাইট / ব্লগ করতে পারেন আর আপনার ব্লগ এর আর্টিকেল এর সাথে ভিডিও ল্যান্ডিং পেইজ লিঙ্ক করেন।

ভালো একটি প্রোডাক্ট সিলেক্ট করার পর আপনার একটি সেলস ফানেল তৈরি করা লাগবে। আমার করা ১ নাম্বার ভিডিও টি দেখে আপনি ল্যান্ডিং পেইজ করতে পারবেন। আমি ভিডিও তে একটি ল্যান্ডিং পেইজ ডিজাইন করে দেখিয়েছি। আপনি যদি নিজে ভালো ডিজাইন করতে না পারেন তাহলে fiverr.com / oDesk.com / eLance.com / Guru.com থেকে আপনার ল্যান্ডিং পেইজ ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। আর Authority Niche Blogging টিউটরিয়াল টি দেখলে ব্লগ এর সাথে কিভাবে ল্যান্ডিং পেইজ লিঙ্ক করে কাজ করবেন শিখতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কমপ্লিট গাইডলাইন [ Best Guides 2022]

৭। Tracking, Split Test, Optimization:

সেলস ফানেল এ ইনভেস্ট করার আগে অবশ্যই আপনার ফানেল টি কেমন কনভার্ট হয় এইটা টেস্ট করা লাগবে। আপনি অল্প কিছু ট্রাফিক কিনে আপনার ল্যান্ডিং পেইজটি আরও ভালো কনভার্ট হওয়ার জন্য Optimize করতে পারেন। ট্রাফিক ট্র্যাক করার জন্য আপনি Google Analytics, Clicky.com অথবা Hypertracker.com ব্যাবহার করতে পারেন, কোন ট্রাফিক থেকে আপনি বেশি Subscriber / Lead পাচ্ছেন এইটা বের করতে পারবেন adtrackzgold.com এই সফটওয়্যার টি ব্যাবহার করে। একই সেলস ফানেল বিভিন্ন ছবি / কন্টেন্ট / ভিডিও দিয়ে স্প্লিট টেস্ট করে দেখতে পারেন কোন হেডার / ভিডিও / কন্টেন্ট এর দ্বারা সবচাইতে বেশি কনভার্ট হচ্ছে। স্প্লিট টেস্ট করার একটি সহজ সফটওয়্যার হচ্ছে adtracksgold.com,  টেস্ট এর জন্য ভালো মানের ১০০০ থেকে ২০০০ ক্লিক যথেষ্ট আর এই টেস্ট গুলো করে আপনি সহজেই আপনার সেলস ফানেল কে Optimize করতে পারবেন।

৮। ট্রাফিকঃ

টেস্ট করে ভালো একটি সেলস ফানেল পেলে ( ভালো মানে অন্তত ৪০% Subscriber পাওয়া যায় ) এর পর আপনি সেই ফানেল এ ট্রাফিক নিয়ে আসবেন। আমাদের সবার ধারনা ” ট্রাফিক”  মানেই সবকিছু – ভুল। ভালো সেলস ফানেল ই সব কিছু, কারন ভালো সেলস ফানেল এ ইনভেস্ট করলে রিটার্ন আসে, আর খারাপ সেলস ফানেল এ ইনভেস্ট করলে ক্লিক আসবে কিন্তু সেল আসবে না। কিভাবে ট্রাফিক টানবেন এর উপর কিছু ভিডিও আমি করে দিয়েছি আমার YouTube চ্যানেল এ। এছাড়াও কিছু টিপস দিয়ে দিচ্ছি – ফ্রি ট্রাফিক চাইলে ব্লগ কমেন্ট, রিলেটেড ফোরাম এ একটিভ হওয়া, Yahoo Answer ভালো, তবে বেস্ট হচ্ছে সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং। আর পেইড ট্রাফিক চাইলে ভালো হচ্ছে PPC, আর PPC এর জন্য ভালো কিছু সাইট হচ্ছে – facebook.com, adknowledge.com, adbrite.com, 7search.com, bidvertiser.com, এছাড়াও সিন হায়েস এর এই আর্টিকেল টি পড়তে পারেন “The Top 22 Pay-Per-Click PPC Advertising Network”। এছাড়া আপনি google এ “Top PPC networks” সার্চ করলে আর অনেক পাবেন। এছাড়া Banner Ad (Media Buy) থেকে ভালো মানের ট্রাফিক পাওয়া যায়, মূলত ভালো ব্লগ গুলোতে যোগাযোগ করে সরাসরি এড দেয়া ভালো, কিন্তু চাইলে আপনি Media Buy marketplace ব্যাবহার করতে পারেন। কিছু ভালো Media Buy/Sell Market হচ্ছে – BuySellAds.com,  AdEngage.com, ProjectWonderful.com, SiteScout.com, BlogAds.com ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি পেইড ট্রাফিক এর জন্য PPV, CPV, CPVR, SOLO, SWIPE, Mobile Traffic, Agency ইত্যাদি ট্রাফিক মেথড ব্যাবহার করতে পারেন। আপনি চাইলে একটি ব্লগ করে আপনার ব্লগ এ SEO করতে পারেন, এটি অবশই পেইড ট্রাফিক এর মধ্যেই পরবে কারন ভালো ভাবে SEO করাতে আপনার $500 – $1000 খরচ হবে। আপনি SEO করাতে চাইলে oDesk/eLance থেকে SEO Expert হায়ার করে নিতে পারেন, এরা Google এর প্রথম পেইজ এ আছে মানে নিঃসন্দেহে ভালো SEO সার্ভিস দিতে পারবে।  বর্তমান এ মোট ২৮ টি ট্রাফিক মেথড রয়েছে, সব গুলোই ভালো কাজ করে, তবে ভালো মার্কেটার রা অল্প কিছু ট্রাফিক মেথড এ master হয়। আপনি ও তাই করেন, যে কোন ১টি অথবা ২টি মেথড এ কাজ করেন, এবং এটা নিয়েই লেগে থাকেন, আস্তে আস্তে আপনার যত ট্রাফিক দরকার আপনার ওই একটি মেথড ই আপনাকে দিতে পারবে। যেমন আমার সকল ট্রাফিক আসে CPVR থেকে, আর এই একটি মেথড এই আমি সব সময় কাজ করি। আবার অনেকেই শুধু FB PPC তে কাজ করছে, ওই একটি থেকেই তার সব ট্রাফিক আসছে। সুতরাং আপনিও শুরু করার জন্য যে কোন ১টি ট্রাফিক মেথড বেছে নিন – ভালো হয় যে কোন PPC নেটওয়ার্ক এ কাজ শুরু করতে পারলে। এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো এর উত্তর পেতে এই বিষয়গুলো জানতে হবে আপনার।একজন ভালো মার্কেটার তার প্রতিটি ক্যাম্পেইন এর প্রতিমুহূর্তের প্রতিটি খুঁটিনাটি মনিটর করে। আপনার সবসময় Adtracksgold অথবা একি রকম কোন সফটওয়্যার ব্যাবহার করে চেক করা লাগবে – কোন ট্রাফিক সোর্স এর কোন এড থেকে আপনি বেশি লিড পাচ্ছেন, কোন ল্যান্ডিং পেইজ ভালো কনভার্ট হচ্ছে, কোন প্রোডাক্ট এর কত EPC, আপনার কোন CPC – এই প্রতিটি জিনিশ সবসময় মনিটর করা লাগবে, আর কোন টি খারাপ মনে হলে সাথে সাথে ওই ক্যাম্পেইন বন্ধ করে যেখানে সমস্যা সেটা ঠিক করা লাগবে। কোন সেলস ফানেল এ সারাজীবন কামাই করে না, প্রতিটি সেলস ফানেল এর একটা মেয়াদ থাকে, আপনি ক্যাম্পেইন টা এখন Profitable দেখে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে গেলে ঘুম থেকে উঠার পর এ যে Profitable থাকবে তা নাও হতে পারে! প্রফিট বাড়ানর একটি ভালো উপায় হচ্ছে লস না দেয়া। এর জন্য পারলে একটি ট্যাব অথবা ভালো মোবাইল কিনে নিবেন যেখানে আপনার দরকারি সব App যেমন “GetResponse”, “Google Analytics” ইত্যাদি ইন্সটল করে নিবেন, এর  সাথে সব কাজের ওয়েবসাইট গুলো বুকমার্ক করে রাখবেন হোমস্ক্রীন এ, যেন যে কোন সময় ক্যাম্পেইন এর কি অবস্থা এক নযর এই বুঝা যায়।

আপনি এভাবে শুরু করতে পারবেন, তবে প্রফিট করার জন্য আপনার অভিজ্ঞতা দরকার হবে, আর সেটা পাবেন অন্তত ৩-৪ মাস কাজ করার পর।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইডলাইন বা রিসোর্স আপনি ইউটিউব কিংবা গুগলে হাজার হাজার পেয়ে যাবেন।

বেশি আয় করার কিছু কার্যকরি উপায়

আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করে বেশি পরিমানে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে বেশি বেশি মার্কেটিংয়ের দিকে নজর রাখতে হবে । বেশি কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ র্টিকেল লিখার মাধ্যমে খুব দ্রুত ইনকাম করুন এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন

আমি নিচে কিছু রিসোর্স দিয়ে দিলাম যেগুলো অবলম্বন করলে আপনার বিক্রয়ে/Sale পরিমাণ বেড়ে যাবে, এবং অনেক বেশি পরিমানে আয় করতে পারবেন।

সঠিক পণ্য নির্বাচন করা

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing এ আসতে হলে সঠিক পণ্য নির্বাচন করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এমন সব পণ্য নির্বাচন করতে হবে যে সকল পণ্যের উপর কাষ্টমারদের চাহিদা বেশি। এবং কমিশনের হার বেশি। তাই পন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বার বার রিসার্স করাটা জরুরী। মনে রাখবেন আপনি যত বেশি রিসার্স করবেন এফিলিয়েট মার্কেটিং-এ আপনার সফলতা তত তারাতারি আসবে।

সঠিক কোম্পানী বা ইন্ডাষ্ট্রি নির্বাচন

ইন্ডাস্ট্রি বা কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে কোম্পানির পণ্য আপনি বিক্রি করতে চাচ্ছেন সে কোম্পানির পণ্যটির কোয়ালিটি, ডেলিভারি সিস্টেম এবং কাস্টমার সাপোর্ট কেমন। এসব বিষয়গুলো যদি ঠিক থাকে তাহলে আপনি সেই কোম্পানির Product/পণ্য এই নির্বাচন করতে পারেন। তবে হ্যাঁ এখানে আরো একটি বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে, পণ্যটির চাহিদা বাজারে কেমন রয়েছে, যদি আপনি এমন কোন পণ্য নির্বাচন করেন যেটির কোনো চাহিদা নেই এবং ক্রেতারা কিনার কোনো আগ্রহ নেই সে সকল পণ্য নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করতে গেলে আপনি কখনোই ভালো কিছু করতে পারবেন না।

আপডেট মার্কেটিং পদ্ধতি অনুস্বরন করা

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করতে হলে বর্তমানে ভার্চুয়াল যে আপডেট মার্কেটগুলো রয়েছে এগুলোতে আপনাকে মার্কেটিং করতে হবে, আপনি যত বেশি মার্কেটিং করতে পারবেন আপনার পণ্য বিক্রয়ে/Sale বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে আর যত বেশি বিক্রি হবে আপনার ব্যবসার সফলতা ততো তাড়াতাড়ি আসবে। আপডেট মার্কেটিং এর মধ্যে জনপ্রিয় মার্কেট হচ্ছে, ইমেইল মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

ওয়েব সাইট তৈরি করা ও এসইও করা

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing এর জন্য আপনাকে প্রথমে একটি তথ্যবহুল ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এবং সে ওয়েবসাইটে পণ্যের রিভিউ এবং খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে। ভালো কোয়ালিটির ছবি রাখতে হবে যেটা দেখে ক্রেতা আকৃষ্ট হয়ে যায়। ওয়েবসাইটে এমনভাবে কনটেন্ট দিতে হবে যাতে তা খুব সহজেই কিনার জন্য আকৃষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার জন্য বিভিন্ন মার্কেটিং বা এস.ই.ও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) করতে হবে। তাহলে খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটে টার্গেট করা কাস্টমার বলে চলে আসবে এবং আপনার ওয়েবসাইট থেকে তারা পণ্য ক্রয় করবে।

আরো পড়ুনঃ এসইও কি? এসইও কিভাবে শিখবো? বিস্তারিত

ডিজিটাল মার্কেটিং করা

এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing করার ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত যতগুলো মার্কেটিং সিস্টেম রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মার্কেট হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। যেহেতু আমরা এফিলিয়েট মার্কেটিং ভার্চুয়ালি করি তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। ডিজিটাল মার্কেটিং বেশকিছু মার্কেটিং সিস্টেম এর নাম যেমন, ফেসবুক মার্কেটিং, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ব্লগ কমেন্টিং, গেষ্ট ব্লগিং, প্রশ্নোত্তর, রেদিত অংশগ্রহন করা ইত্যাদি,

সোশ্যাল সিগনাল এর প্রতি খেয়াল রাখা

সোশ্যাল সিগন্যাল বলতে আমরা বুঝি, যেসকল সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি মার্কেটিং করবেন তার সিগনালগুলো সবসময় খেয়াল রাখা। যেমন আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন, সেটাতে কাস্টমাররা কি কি কমেন্ট করছে বা কি জানতে চাচ্ছে সে বিষয়ে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদের সাথে কমিউনিকেশন রাখতে হবে তাহলে আপনার বিক্রয়ে/Sale অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে শিখুন গ্রাফিক্স ডিজাইন ( এ টু যেড গাইডলাইন)

জনপ্রিয় কিছু এফিলিয়েট প্রোগ্রাম

বর্তমানে অনেক এফিলিয়েট প্রোগ্রাম রয়েছে তাদের মধ্যে আমি জনপ্রিয় কিছু Affiliate Marketing বা এফিলিয়েট প্রোগ্রাম নিম্নে তুলে ধরলাম।

CJ Affiliate: এ প্রোগ্রামটি মূলত ডিজিটাল পণ্য নিয়ে নির্মিত। আপনি যদি ডিজিটাল Product/পণ্য নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে চান তাহলে সবচেয়ে বেস্ট অপশন হচ্ছে সিজে Affiliate Marketing প্রোগ্রাম।
Amazon Associates: এটি মূলত ফিজিক্যাল Product/পণ্য বিক্রয়ের জন্য এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এবং এদের বেশকিছু ডিজিটাল প্রোডাক্ট রয়েছে।
Ebay Partner Network: এটি মূলত ফিজিক্যাল Product/পণ্য বিক্রয়ে/Sale জন্য এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এবং এদের বেশকিছু ডিজিটাল Product/পণ্য রয়েছে।
Cclickbank: এটি মূলত লীড জেনারেশন, ডিজিটাল সার্ভিস, রিলেটেড এফিলিয়েট প্রোগ্রাম।

সবশেষে আমাদের পরামর্শঃ

আপনি যদি Affiliate Marketing নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন এবং অবশ্যই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে তারপর Affiliate Marketing শুরু করবেন কেননা আপনি যদি কোন কিছু না জেনে না বুঝে ফেলে মার্কেটিং শুরু করে দেন তাহলে আপনার সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার হার বেড়ে যাবে। আমরা চাই আপনি অবশ্যই অনলাইনে ইনকামের জন্য সফলতা অর্জন করুন এবং সেই পরামর্শ দিয়ে থাকে তাই। কাজ শিখুন, বিভিন্ন অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে জানুন এবং যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিন তারপর কাজে নেমে পড়ুন আপনি অবশ্যই সফল হবেন। আমরা সব সময় এই আশাই করি।

আশা করি এই বিশাল আর্টিকেলটি পড়ে বুঝেছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে। আমরা কভার করার চেষ্টা করেছি এফিলিয়েট মার্কেটিং কি, এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে, এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শিখবো, এফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল, এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং pdf ইত্যাদি সমস্থ বিষয় বিস্তারিত কভার করতে।

error: দুঃখিত! কন্টেন্ট কপি করা যাবেনা! প্রয়োজনে শেয়ার অপশন থেকে শেয়ার করুন